বিষয়ঃ প্রিয় মানুষদের সম্পর্কে লেখকের স্মৃতিচারণ, মূল্যায়ন ও নিজের জীবনের সাথে তাদের জীবনের আধ্যাত্মিক সম্পর্কের সরল আলোচনা।
লেখক পরিচিতিঃ দার্শনিক, সম্পাদক, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক,নিবন্ধক, ইতিহাসবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজতাত্ত্বিক, কবি,গল্পকার যেকোন অভিধায় নির্দ্বিধায় নদভীকে রাখা যায়। উনি একজন লেখক। জন্ম লেখক। লিখাই যার প্যাশন। বাংলা আরবী উর্দু ফার্সি চারটি ভাষায় সহজাত সাবলীল। পড়া বলা লিখা সমান তালে চলে। উনি দুই হাতে লিখেন। নিজের বাসায়ই গড়ে তুলেছেন সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। পড়াশোনা আর লেখা এই দুইটাই উনার কাজ। জাত সম্পাদক। কষ্ট করে বইয়ের পাতায় তাকালেই চলে, পড়তে হয়না। মনেহয় অক্ষর শব্দ আপনা-আপনিই মগজে গেঁথে যায়। উবায়দুর রহমান খান নদভীর লেখার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পাঠক পড়ে আরাম অনুভব করেন। কষ্ট করে জোর জবরদস্তি গিলতে হয় না। মুখে দিলেই গলে যায়। খান নদভী লিখেন পাঠকের জন্য। পাঠকের সুখ-দুখ, আশা আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন- কল্পনা, প্রাপ্তি, জয়- পরাজয় কলমের আচরে জীবিত হয়ে উঠে উনার লেখায়।
প্রিয় পদরেখা
প্রিয় পপদযুগল যে পথ মাড়িয়ে পেরিয়ে গিয়েছে সাফল্যের সকল সীমানা অতিক্রম করে আসীমের সন্ধানে তাদের পদরেখা অনুসরণ করতে চেয়েছেন লেখক। লেখক যখন চোখ খুলে পৃথিবীর রূপ-রস আস্বাদন করতে শুরু করেছেন তখনি দেখা পেয়ে যান স্বপ্নের। কখনো বইয়ের পাতায়, কখনো উস্তাদদের কথায়, কখনো পত্রিকার সংবাদে আবার কখনো বাড়িতে বেড়াতে আসা মোবারক মেহমানদের চেহারায়। লেখককে স্বপ্নের পেছনে ছোটাতে হয় নি, স্বপ্নই লেখককে পৌছে দিয়েছে প্রিয় পদরেখায়। শায়খ আবুল হাসান আলি নদভী, মুহিউদ্দিন খান, শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক, সুলতান যওক নদভী, আবু সাঈদ মোহাম্মাদ উমর আলি, অধ্যাপক আখতার ফারুক, মুফতি আমীনি, খতীব উবায়দুল হক সহ যে সকল পায়ের ছাপে নিজের স্বপ্নের দেখা পেয়েছেন তাদের কথা, তাদের জীবনের কথা, প্রাপ্তি ও ভালোবাসার কথা, সম্পর্ক ও অনুরাগের কথা বলেগেছেন গল্পের ডঙ্গে। মোট ২১ টি আলাদা চ্যাপ্টারে ২৩ জন মনিষীর কথা আলোচিত হয়েছে প্রিয় পদরেখায়।
প্রিয় পদরেখা শুধুমাত্র স্মৃতিচারণ মূলক সংকলন নয়। লেখকের সমৃদ্ধ জীবনে যেসকল বুজুর্গের সহচার্য পেয়েছেন, তাদের কর্মপদ্ধতি চাক্ষুষ করেছেন, চিন্তা চেতনা লাভ করেছেন, লালন করেছেন, নিজেকে শাণিত করেছেন, তিক্ষ্ণ ধারালো করে তুলেছেন যাঁদের পদরেণু গায়ে মেখে অসীমের পথ খুঁজে পেয়েছেন তাদের চিত্রিত করেছেন কাগুজে ক্যানভাসে। অচেনা অজানা প্রিয়মুখকে একে দিতে চেয়েছেন পাঠকের মন ও মগজে। পাঠকের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন নিজের প্রিয় পদরেখা। পথ দেখাতে চেয়েছেন আলোকিত ভবিষ্যতের।লেখক প্রিয় পদরেখার খুঁজে দেশের সীমানা পেরিয়ে হানা দিয়েছেন সকল আলোর মিনারে। আঁজলা ভরে পান করেছেন প্রেমের শরাব। নিজে সিক্ত হয়েছেন পেয়েছেন আলোকবর্তিকা।
প্রিয় পদরেখায় আলোচিত বুজুর্গরা সকলেই আমাদের চেনাজানা, অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। তারা একেকজন একেকটি প্রজ্বলন্ত সূর্যের মতো আলো ছড়িয়েছেন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে। সকল শ্রেনীর সকল মানুষের কাছেই ছিলেন সমান সমাদৃত। মহান এই মনিষীদের অধিকাংশই আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে দেখতে প্রিয় পদরেখা অনুসরণের বিকল্প নেই। আশাকরি বইটি সবার ভালো লাগবে। লেখক আবেগ অনুরাগ ভালোবাসার সংমিশ্রণে এঁকেছেন প্রিয় পদরেখা যা কারোও কাছে একঘেয়েমির উদ্রেক করতে পারে তবে মনযোগী পাঠকের জন্য এই বইয় হৃদয়ের খোরাক রয়েছে।
রেটিংঃ১০/৭