"লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা" বইটির ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃ লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা উপন্যাসটি গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস-এর একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাসই নয় এটি বিশ্বসাহিত্যেরও শ্রেষ্ঠ উপন্যাসরূপে ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্বখ্যাত এ উপন্যাসে মার্কেস অনেকগুলাে অবিস্মরণীয় চরিত্র ও ঘটনা উপহার দিয়েছেন। এছাড়া মার্কেসের লেখার কৌতুকরসবোধ, ভাষাশৈলী ও কাহিনির ভিতরে ভিতরে রােমান্টিকতা আর ভরা যৌনতা অনুষঙ্গের কুশলী ব্যবহার উপন্যাসটিকে স্বকিয় বৈশিষ্ট্য উপহার দিয়েছে। উপন্যাসের তিন মুখ্য চরিত্রের মধ্যে ডাক্তার জুভেনাল উরবিনাে, ফ্লোরেন্টিনাে আরিজা ও ফারমিনা দাজার পঞ্চাশ বছর ধরে পরস্পরের জীবনের সঙ্গে নানা গ্রন্থিতে জড়িয়ে যায়, রাগ-অনুরাগ ও দ্বন্দময় আবেগ অনুভূতির মধ্য দিয়ে তাদের সম্পর্ক যে পরিণতির দিকে অগ্রসর হয় তা পাঠককে বিস্মিত, আনন্দিত ও পুলকিত করে। তার অনন্য সাধারণ এ উপন্যাসটি পড়ার সময় পাঠক নিজের অজান্তেই ভালােবাসার এক মায়াভরা ভুবনে ডুবে যাবেন। যেমনি করে আমরা আমাদের স্বপ্ন বা কল্পনার জগতে প্রায়ই এক আশ্চর্য সুন্দর জগতের সন্ধ্যান পাই, যা কখনাে আমাদের অতিচেনা আবার কখনাে বা সম্পূর্ণ অচেনা, মার্কেসের এই বই পরে আমাদের অনুরূপ অভিজ্ঞতার ব্যাপ্তি ঘটবে বলে আশা রাখি। তার লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা গ্রন্থে ফ্লোরেন্টিনাে যখন ফারমিনার প্রবল অপ্রতিরােধ্য প্রেমে পড়ে তখন প্রেমিক ও প্রেমাস্পদ উভয়েই ছিল স্বল্পবয়সী তরুন-তরুনি। একসময় ফারমিনার বিয়ে হয় শহরের সবচাইতে অভিজাত বংশের উচ্চশিক্ষিত ডাক্তার সুদর্শন যুবক জুভেনাল উরবিনাের সাথে। এই বিয়েতে তাদের দাম্পত্য জীবন হয় সুখের কিন্তু পঞ্চাশ বছর পর যখন ডাক্তার মৃত্যুবরণ করেন তখন ফারমিনার আগের প্রেমিক ফ্লোরেন্টিনাে, যে কখনােই ফারমিনাকে একমুহূর্তের জন্যও ভুলে থাকতে পারেনি তারা দু’জন কৈশােরের প্রেমে বার্ধক্যের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। নদীবক্ষে চলাচল করা এক নৌযানে। তখন এদিক ওদিক কলেরার প্রার্দুভাব। প্রেমিক যুগল এসুযােগ কাজে লাগালাে। তারা জাহাজে বিপদসংকেত পতাকা উড়িয়ে দিলাে। অতপর প্রেমের তরী চলতে থাকে অনাবিদ কাল...
গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস ১৯২৭ সালে কলোম্বিয়ার আরাকাতাকায় জন্মগ্রহন করেন। তিনি বোগোতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীকালে তিনি কলোম্বিয়ার এল এস্পেক্তাদর সংবাদপত্রের রোম, প্যারিস, বার্সেলোনা, কারাকাস ও নিউ ইয়র্কের বৈদেশিক সংবাদদাতা হিসাবে কাজ করেন। তিনি বেশ কয়েকটি উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থের রচয়িতা, তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল: আইজ অব আ ব্লু ডগ (১৯৪৭), লিফ স্টর্ম (১৯৫৫), নো ওয়ান রাইটস টু দ্য কর্নেল (১৯৫৮), ইন ইভিল আওয়ার (১৯৬২), বিগ মামা’স ফিউনারেল (১৯৬২), ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিচুড (১৯৬৭), ইনোসেন্ট এরেন্দিরা এ্যান্ড আদার স্টোরিজ (১৯৭২), দ্য অটাম অব দ্য প্যাট্রিয়ার্ক (১৯৭৫), ক্রনিকল অব আ ডেথ ফরটোল্ড (১৯৮১), লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা (১৯৮৫), দ্য জেনারেল ইন হিজ ল্যাবেরিন্থ (১৯৮৯), স্ট্রেঞ্জ পিলগ্রিমস (১৯৯২), অব লাভ এ্যান্ড আদার ডেমনস (১৯৯৪) এবং মেমোরিজ অব মাই মেলানকলি হোরস (২০০৫)। দীর্ঘ রোগভোগের পর গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস ১৭ এপ্রিল ২০১৪ সালে প্রয়াত হন।