আবুল ফজল বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক। তিনি ১৯০৩ সালের ১৭ জুলাই চট্টগ্রামের কেঁওচিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৮৩ সালের ৪ মে মারা যান। তিনি ১৯২৩ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯২৫ সালে ঢাকা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৮ সালে বি.এ. পাস করেন। এছাড়া ১৯৪০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. পাশ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রাষ্ট্রপতির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি মূলত একজন চিন্তাশীল ও সমাজমনস্ক প্রবন্ধকার। তার প্রবন্ধে সমাজ,সাহিত্য,সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র সম্পর্কে গভীর ও স্বচ্ছ দৃষ্টিসম্পন্ন মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়। স্বাধীনতা পদক, ২০১২ , বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬২, প্রেসিডেন্ট সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৬৩, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৬০ ইত্যাদি পুরস্কার সহ আরো অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। আমাদের প্রবন্ধসাহিত্য অন্যান্য শাখার মতো ততোটা সমৃদ্ধ নয়। আমাদের প্রবন্ধসাহিত্যে, আবু হেনা মোস্তফা কামালের ভাষায়, পার্বতী-পরমেশ্বরের মিলন খুব কমই ঘটেছে। পঞ্চাশের দশকে বাংলাদেশের প্রবন্ধসাহিত্যের প্রধান শিল্পীদের অনেকেই বিভাগ-পূর্ব কালে সাহিত্যের ভুবনে আবির্ভূত হয়েছেন। বিভাগ-পূর্ব কালের শিল্পীদের হাতেই আমাদের মননচর্চা,যাত্রাপথ সূচিত হয়। তাঁদের প্রদর্শিত পথেই উত্তর-কালের শিল্পীরা নিজেদের গন্তব্যে যাবার সাহস পেয়েছেন। এ পর্বে যাদের সাধনায় বাংলাদেশের প্রবন্ধসাহিত্যের ভিত্তি রচিত হয়েছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন আবুল ফজল। বাংলাদেশের প্রবন্ধসাহিত্যের পঞ্চাশের দশকে বিষয় হিসেবে সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রাধান্যের সূত্রপাত ঘটেছিল বিভাগ-পূর্ব কালের উপর্যুক্ত শিল্পীদের রচনায়। বিভাগ-পরবর্তী সিকি শতাব্দীর প্রবন্ধসাহিত্যের বিকাশের প্রশ্নে এঁদের ভূমিকা ছিল পথ-প্রদর্শকদের। এঁদের রচনায় স্বাতন্ত্র্যপ্রত্যাশী মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানস-আকাক্ষা যেমন ব্যক্ত হয়েছে, তেমনি প্রকাশিত হয়েছে তাঁদের মুক্ত উদার মানবতাবাদী জীবনদৃষ্টিও। সেই সময়ের অন্যতম একজন প্রবন্ধকার হলেন আবুল ফজল। তাঁর অন্যতম একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ হল ‘শুভবুদ্ধি’। এই গ্রন্থে ছোট ছোট বেশ কিছু প্রবন্ধ রয়েছে। এই গ্রন্থে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সংস্কৃতি, বাংলাদেশের শিক্ষা, সমাজতন্ত্র, কবি লেখকদের কথা ইত্যাদি এমন নানা বিষয় লেখক এই গ্রন্থে প্রবন্ধ আকারে উপস্থাপন করেছেন।