রবীন্দ্রনাথ শিশুদের জন্যে প্রচুর লিখেছেন। শিশু, শিশু ভোলানাথ, খাপছড়া, ছড়া ও ছবি, গল্প-সল্প- কল্পনা, সহজ পাঠ ইত্যাদি অসংখ্য ছড়া ও কবিতা গ্রন্থ তিনি শিশুদের জন্যে রচনা করেছেন। ছড়াগুলোকে রবীন্দ্রনাথ মেঘের সাথে তুলনা করেছেন। যখন ছোটদের জন্যে লিখেছেন তখন তিনি যেন শিশুর চোখ নিয়েই দেখেছেন। কবি যখন ছোট নদীর কথা তুলে ধরেন তখন তা পাঠ করে শিশুরা নিজ চোখে দেখা নদীটাকেই মনে মনে ধরে নেয়। রবীন্দ্রনাথের এই বিচিত্র ইচ্ছে বিচিত্র সাধ, কবিতায় আরো প্রসারিত হয়ে শিশুদের মনের যাবতীয় কল্পনা, ইচ্ছেগুলো ব্যক্ত হয়েছে। এই কবিতায় কবির শিশুমন গলির পাশে ফেরিওয়ালাকে দেখে ফেরিওয়ালাকে, মালিকে দেখে মালী, পাহারাদারকে দেখে পাহারাদার হতে চেয়েছেন। আর বীর পুরুষ কবিতায় কবি বীর হয়ে মাকে নিয়ে বিদেশ ঘুরতে বেড়িয়েছেন। পথের বাধা সৃষ্টিকারী ডাকাতদলগুলো মেরে শেষ করেছেন। শিশুদের আনন্দ দানকারী এই অসম্ভব সুন্দর কবিতাতেই রবীন্দ্রনাথ ইচ্ছে পূরণ না হওয়া শিশু মনের ব্যথাহত অভিব্যক্তি তুলে ধরেছে ছোট শিশুদের থাকে নানান রকম দুরন্তপনা। আধো আধো কথায় শিশুরা মন ভরিয়ে দেয়। শিশু ছোট হলেও তার রং ঢং সত্যি মুগ্ধ করে।এমন লোককে একটি নামে ডাকা কি হয় সঙ্গত’। (পরিচয়, শিশু) রবীন্দ্র নাথ যখন ছোটদের জন্যে লিখেছেন, তখন তিনি মনে প্রাণে নিজেই ছোট্ট শিশু বনে গেছেন। শিশুদের চাওয়া পাওয়া, আধো আধো কথা বলা তাই তার কাব্যে হয়েছে জীবন্ত, প্রাণবন্ত। মূলকথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিশু কাব্য রচনায় যে রস ও ছন্দের আয়োজন করেছেন তা শিশু মনের শ্রেষ্ঠ খোরাক সন্দেহ নেই। তাই শিশুদের কাছেও তিনি কিংবদন্তি।পাঠক মিস করবেন না।