স্রষ্টা ও শয়তান কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ৪৪টি কবিতা আছে। এই কবিতার প্রচ্ছদ এঁকেছেন তরুণ প্রচ্ছদ শিল্পী রিফাত বিন সালাম। ভেতরে অঙ্গসজ্জার কাজটিও তিনি করেছেন। ভূমিকা লিখেছেন সাংবাদিক শুভ রহমান। কাটুক আঁধার বইয়ে তিনি যেমনটি বলেছেন এখানেও হুবহু একই কথাই তিনি বলেছেন। কবি নাজিম হিকমতের সেই শাশ্বত বাণী উদ্ধৃত করেই শুভ রহমান বলেছেন, সেই শিল্পই খাঁটি শিল্প, যার দর্পণে জীবন প্রতিফলিত । যা জীবন সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা দেয় না। স্রষ্টা ও শয়তান কাব্যভুক্ত কবিতাগুলোও অনেকটা সেরকমই। এই কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতাগুলো জীবন সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেনি। বাস্তব জীবনের ছটা চিত্রিত করে কবি দেখিয়েছেন, কীভাবে মানবতা ভূলুণ্ঠিত হয়, তার প্রতিবাদ করতে হয় আর সমাজের বদলের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রয়োজনীয়তার প্রশ্নটি বার বার উচ্চারিত হয়েছে। এই কাব্যগ্রন্থে কবি সুস্পষ্ট দুটো পক্ষ চিহ্নিত করেছেন। এই দুই পক্ষের একভাগে রয়েছে সৃষ্টির অমীয় ধারা আর অপরভাগে আছে শয়তানের কুমন্ত্রণা আর তার ক্রমাগত স্বেচ্ছাচার, লুটপাট, হত্যা, ধর্ষণ, মিথ্যাচার, জীবন নিয়ে নোংরামি ইত্যাদি। এসব করে তারা যুগের পর যুগ জীবনকে মিথ্যা দ্বারা পদানত করে রেখেছে। তবে এই অপকর্ম একজনের দ্বারা সংঘটিত হয়নি, একক কোনো জাতি দ্বারাও সংঘটিত হয়নি। তবু কবি বিশ্বাস করেন, শেষ অবধি জয় হয় মানবতারই । স্রষ্টা ও শয়তান কবিতা্য় সেই সত্যেরই ইঙ্গিতই দিয়েছেন।