বই: নন্দলাল বসু
লেখক: আবুল মনসুর
ধরন: জীবনী
প্রচ্ছদ : সব্যসাচী হাজরা
প্রকাশনী : বাতিঘর
একজন শিল্পী কেমন করে হঠাৎ তার আশেপাশের অন্যদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হয়ে ওঠেন সেটি বুঝতে হলে শিল্পকলার ভাবভঙ্গি, তার আচার আচরণ সম্পর্কে আমাদের ধারনা পেতে হবে। বিশিষ্ট শিল্পবোদ্ধা আবুল মনসুর তার কিশোরপাঠ্য _এ বইয়ে শিল্পাচার্য নন্দলাল বসু সম্পর্কে লিখে সেই ধারনা পেতে প্রয়াস চালিয়েছেন।
আধুনিক ভারত শিল্পের পথিকৃত -অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আর তার প্রিয় শিষ্য হলেন এই নন্দলাল বসু। অবনীন্দ্রনাথের পরেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী, আধুনিক ভারত শিল্পের একজন অন্যতম রূপকার।
ছেলেবেলা থেকেই তার শিল্পের প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। তবে পিতা মাতা চাইতেন তাদের সন্তান কে মেডিকেল বা বাণিজ্য বিষয়ক পড়াশুনা করাবেন। কিন্তু প্রথাগত পড়াশুনা নন্দলালের কখনোই ভালো লাগতো না। অল্প বয়সে পরিবার থেকে বিয়েও করানো হয় তাকে। প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তিও হয়েছিলেন, কিন্তু সেসময় তার পিসতুতো ভাইয়ের (তৎকালীন সরকারি আর্ট কলেজের ছাত্র) কাছে শিখতে থাকেন মডেল দেখা ড্রয়িং, স্থির বস্তু দেখে রঙ দিয়ে ছবি আকাঁর বিভিন্ন কৌশল। এসময়ই তিনি নিজেকে শিল্পী হিসেবে প্রকাশের ইচ্ছা পোষণ করেন। সুযোগ করে নেন কলকাতা আর্ট কলেজে, সহচর্যে আসেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। আস্তে আস্তে তার প্রতিভার বিকাশ ঘটতে থাকে। পরবর্তীতে সংস্পর্শে আসেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। তিনি তাকে নিয়ে যান নিজের প্রতিষ্ঠিত শান্তি নিকতনে। কবিতায় আর চিত্রে একে অপরের অনুপ্রেরণার যোগান দিয়ে যেতে থাকেন। আর ছাত্রছাত্রীদের কাছে নন্দলাল বসু হয়ে ওঠেন প্রিয় মাষ্টার মশাই। তার পরে আরও অনেক শিক্ষাগুরু এসেছেন এই শান্তি নিকেতনে তবুও আজও মাষ্টার মাশাই বলতে যার নাম সর্বাগ্রে আসবে তিনি - নন্দলাল বসু। ছোট এই লেখায় তাকে পুরোটা ধারন করা কখনই সম্ভব নয়।
তাই বইটি পড়তে হবে। বইটি পড়লে আচার্য নন্দলাল বসু সম্পর্কে জানা যাবে আরও অজানা দিকগুলি। তাছাড়াও এই বইয়ে উঠে এসেছে তৎকালীন শিল্পের ধরন, ভাবনা ও আরও অনেক শিল্পীদের কথা। আগ্রহী পাঠকদের তাই নিরাশ হওয়ার সুযোগ নেই।