যদি বলি, ‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো- যদি এই কথা বলি তাহলে অসবার আগে কি মনে হবে? সালমান শাহ দুঃখী চেহারায় গান গাইছে সেটা নাকি তবে অকালে আকাশের ঠিকানায় চলে যাওয়া একজন অভিমানী বাউল কবি কে?
আমার ক্ষেত্রে ২য় টি হবে।
রুদ্র, রুদ্র মোঃ শহীদুল্লাহ। আশির দশকে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠে যে কয়জন কবি বাংলাদেশী শ্রোতাদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন রুদ্র তাদের মধ্যে অন্যতম। একজন কবি বা লেখককে সাধারণের হৃদয় স্পর্শ করতে হলে, তাদের স্মরণে স্থায়ী আসন গেড়ে নিতে হলে ঠিক কতগুলো সাহিত্য রচনার দায় মাথায় রাখতে হয়? এ প্রশ্নের জবাব হয়তো কারো কাছেই নেই। থাকার কথাও নয়। কিন্তু যদি বলি সাতটি কাব্যগ্রন্থ, দশ বা্রোটি গল্প, গোটা কয় কাব্যনাট্য এবং অর্ধ শতাধিক গান রচনার মাধ্যমে এই কাজটি করা সম্ভব তাহলে কি বিশ্বাস করবেন?
যদি সেই ব্যক্তি , রুদ্র মোঃ শহীদুল্লাহ হয় তাহলে আপনাকে তা মানতেই হবে। তার মতো আর কে-ই বা যন্ত্রণাদগ্ধ হৃদয়ের হাহাকার নিয়ে বলতে পেরেছে, ‘যে মাঠ থেকে এসেছিল স্বাধীনতার ডাক, সে মাঠে আজ বসে নেশার হাট?’ স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা এবং তারুণ্যের অবক্ষয় আর যথেচ্ছাচারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে এর চেয়ে স্পস্ট ভাষা আর কী হতে পারে?
তাঁর ৬ষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ দিয়েছিলে সকল আকাশ । ১৯৮৮ তে প্রকাশিত। ১৭ টি ছোট বড় কবিতার এই বইটিতে যুগপৎ উঠে এসেছে দ্রোহ ও প্রেম, স্বপ্ন ও সংগ্রামের শিল্পভাষ্য। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’—এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি ততোধিক স্পর্ধায় তিনি উচ্চারণ করেছেন—‘ভুল মানুষের কাছে নতজানু নই’। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাঁকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীকে'। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা। অমর এই কবির কাব্য প্রতিভার কাছে আজ নতজানু হয়ে নতুন করে পড়া যেতে পারে চির সবুজের কবিতা – রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ'র কবিতা।