বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রাথমিক ভিত্তিপ্রস্থর হল ভাষা আন্দোলন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান ও ভারতের সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে পূর্ব বাংলার নাম দেয়া হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান। দেশভাগের পরপরই পাকিস্তানের এই দুটি অংশে বিভিন্ন মতানৈক্য দেখা দেয়, বিশেষত রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে। এই বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে যখন তৎকালীন গভর্নর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনে এসে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করেন। তার এই ঘোষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-সমাজ, বুদ্ধিজীবীমহল তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন, যার চরম পরিণতি ঘটে ১৯৫২ সালে।
তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। এতে ছাত্ররা সরকারের এই ঘোষণা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তারা রাস্তায় মিছিলে বের হয়। মিছিলে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি করলে সালাম, জব্বার, বরকত, রফিক, শফিউর নিহত হন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাঙালির স্বাধিকার রক্ষায় এ ছিল প্রথম ও বলিষ্ঠ আন্দোলন, যার পবিত্র স্মৃতিফলক হল আজকের শহীদ মিনার। এই মিনারের দুজন বিখ্যাত নকশাবিদ হলেন হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদ।
ভাষা আন্দোলনের দুবছর পর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় এবং এ-বছর পাকিস্তানের প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মুসলিম লীগকে হারিয়ে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ জয়ী হয়। ৩০৯ টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট একাই ৩০০টি আসন লাভ করেন এবং বাকি ৯টি পান মুসলিম লীগ। যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতা গ্রহণ করলেও ছাপ্পান্ন দিনের মাথায় কেন্দ্রিয় সরকার প্রাদেশিক সরকারকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নরের আহবানে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক সরকার গঠন করেন। ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগের সংকটময় মুহূর্তে শেখ মুজিব এগিয়ে আসেন। এসময় আওয়ামী লীগ কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করে প্রায় দশ বছর সামরিক শাসন চালিয়ে যান। এরপর গণঅভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে। আইয়ুব সরকার বঙ্গবন্ধুকে দেশদ্রোহী মামলায় আসামী করেন, যা আগরতলা ষড়যন্ত্র নামে পরিচিত।
ষাটের দশকে পাক-ভারত যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ-যুদ্ধের মধ্যদিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ আরো তীব্র হয়ে ওঠে। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু বাঙালির স্বাধিকার রক্ষায় ছয় দফা ঘোষণা করেন। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হয়েও পাকিস্তান সরকার তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ-বছর ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী পূর্ব বাংলার জনসাধারণের উপর ঝাপিয়ে পড়ে।
অবশেষে বাঙালির দীর্ঘ নয় মাস সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয় ঘটে। এসবের পাশাপাশি লেখক গ্রন্থটিতে বুদ্ধিজীবী হত্যা, সোহরাওয়ার্দী, আবদুল হামিদ খান ভাসানী, চার নেতা, সাত বীরশ্রেষ্ঠ নিয়ে সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেন।
বইটি পাওয়ার জন্য ভিজিট করুন: https://www.rokomari.com/book/112259 অথবা ফোন করুন ১৬২৯৭