“ক্রীতদাসের ইতিহাস” আশরাফ উল ময়েজ এর অসাধারন একটি বই।লেখক বইটিতে ক্রীতদাসদের করুন দুঃখ গাঁথা ইতিহাস অনেক সুন্দর করে তুলে ধরেছেন।ক্রীতদাস প্রথার ইতিহাস অতি প্রাচীন। খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ থেকে ৩০০০ সালে মেসোপটেমিয়ায় প্রথম ক্রীতদাস প্রথার চালু। তারও হাজার খানেক বছর পর থেকে এই প্রথা ছড়িয়ে পড়ে মিশর আর ভারতে। তারও অনেক অনেক পরে চীনে জাঁকিয়ে বসে অমানবিক এই প্রথা । ৮০০ থেকে ৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিসে এবং ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমে শুরু হয় ক্রীতদাস প্রথার যে চিত্রটির সাথে আমরা সাধারণভাবে পরিচিত তার জয়যাত্রা। এ যেন সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে অসভ্যতার আর অমানবিকতার শীর্ষে উঠবার প্রক্রিয়া। এভাবে প্রায় পুরো বিশ্বজুড়েই ছড়িয়ে পড়ে ক্রীতদাস প্রথা। ওদের কান্না ধ্বনিত হতে থাকে সবখানে, সবসময়। ক্রীতদাস প্রথার প্রথমদিকে এর বিস্তার ছিল কম। উৎপাদনের মূল চালিকা তখনও হয়ে ওঠেনি ক্রীতদাসেরা, দাস বেচাকেনার ব্যবসাটিও শুরু হয়েছে অনেক পরে। কিন্তু মানুষ বরাবরই ভীষণ ‘বুদ্ধিমান’-অমানবিকতার নতুন নতুন কৌশল শিখে নিতে একটুও দেরি হয়নি আমাদের ।লেখক মধ্যযুগের সারা বিশ্বে ক্রীতদাসদের কেনা বেচার কথা ও তাদের করুন পরিনতির কথা গুলো অনেক সুন্দর করে তুলে ধরেছে বইটিতে।শিকলে বাঁধা, ক্ষুধার্ত, অত্যাচারিত একদল মানুষের মুখের কথা মনে হলেও বাস্তবের চিত্রটি মোটেও সহজ নয় এত। অত্যাচার এবং অসভ্যতার চূড়ান্ত নিদর্শন এই ক্রীতদাস প্রথার সত্যিকারের ভয়াবহ রুপটি শুধু লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মানুষের আর্তনাদ, কান্না আর অচিন্তনীয় কষ্টের এই ইতিহাস শুধু জানবার নয়, অনুভবেরও। ক্রীতদাসদের কাহিনী শুনলে যে কারও মনে প্রশ্ন জাগবে, আমরা কি মানুষ? এই কি সভ্যতা? পাঠকদের বলছি ক্রীতদাসদের করুন কাহিনী জানতে বইটি পড়ে ফেলুন আশা করি অনেক কিছুই জানতে পারবেন।