কলিকাতার কবি ও প্রকৌশলী অর্ক বসু চেয়েছিল ঢাকার কবি বৃষ্টিলেখা ওর স্ত্রী হোক। ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে যেতে চেয়েছিল একটি দুরন্ত লাফে। পারিবারিক আপত্তি ছিল না দুদিক থেকেই। অর্ক বিশ্বাস করত মনন সাংসারিক সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। সে সূত্রে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রতিবেশী দেশের নাগরিক ভিন ধর্মের বৃষ্টিলেখার সাথে ঘর বাঁধবে। ঘটনাটি না ঘটার কোন কারণ নেই। কিন্তু প্রশ্ন এলো বৃষ্টিলেখার মনে। সংস্কার বা ধর্মীয় বেড়াজাল নয়, কি হবে তার ভবিষ্যতের আত্মপরিচয়? কি পরিচয়ে বাঁচবে সে? ভারতীয়? বাংলাদেশী? হিন্দু? মুসলমান? কি পরিচয় বহন করবে তাদের উত্তরাধিকার? অর্কর পূর্বপুরুষের শহর দার্জিলিং থেকে শুরু হওয়া এই উপন্যাসে তার বাবার প্রেমিকা গোর্খাকন্যা লালিমা গুরুং-এর সামাজিকভাবে অর্কর মা হয়ে ওঠার কাহিনী ও পরবর্তী গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে অর্ককে সফল করে তোলার ইতিহাস জাতিগত দ্বন্দ্বের সীমাবদ্ধতা প্রমাণ করেছে। ক্রমে বাংলাদেশের সাথে সম্পৃক্ততা ও অফিসের মহিলা আধিকারিক কুহুর সাথে দ্বন্দ্ব অর্ককে টেনে এনেছে ঢাকায়। ধীরে ধীরে বাংলাদেশ নিজেই হয়ে উঠেছে এই উপন্যাসের একটি চরিত্র। কবিতা হয়ে উঠেছে তার মূল সঙ্গী।
এ উপন্যাসে অনেক বাস্তব চরিত্র উঠে এলেও তাদের নাম পরিবর্তন করা হয়নি যা নিঃসন্দেহে ব্যাতিক্রমী। আগামী প্রজন্ম যেভাবে তাদের দেশকে দেখতে চায় তার রূপরেখা রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে। রাজনীতি ও যৌনতা এসেছে অবশ্যম্ভাবী অনুসঙ্গ হিসেবে। কারণ তাদের অস্বীকার করার ক্ষমতা বাস্তবের কাছাকাছি এই উপন্যাসের আরেক উপজীব্য এর গীতিময়তা। সব মিলে নবীন প্রজন্মের রেডবুক ‘যখন বৃষ্টি নামলো’।