26 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 160TK. 138 You Save TK. 22 (14%)
“দ্য ওয়াণ্ডারার’স নেকলেস" বইটির ফ্ল্যাপ এর লেখাঃ
সহজ কথা বলতে আমায় কহাে যে
সহজ কথা যায় কি বলা সহজে!
কথাটা রবীন্দ্রনাথের । কিন্তু সুমন্ত আসলাম যা বলেন তা সহজে
কার্তিক পাণ্ডু যদি জানত— নয় ঘণ্টা সতের মিনিট পর ভয়াবহ একটা ব্যাপার অপেক্ষা করছে তার জন্য, তাহলে তিনি আজ ঘর থেকে বের হতেন না। ঠাঁই বসে থাকতেন ঘরে। এটা ওটা করতেন, কিংবা পোয়াতি বউয়ের সঙ্গে জরাজীর্ণ হয়ে ছেড়ে যাওয়া লুডু খেলতেন। যে খেলাতে তিনি প্রায়ই হেরে যান, জিততে ইচ্ছা করে না তার কোনোভাবেই। বরং পরাজিতের বেদনার চেয়ে অপরকে জিতিয়ে দেওয়ার আনন্দ যে অধিক মূল্যবান, সেটা উপভোগ করেন। তবে প্রকৃতি তাকে কিছুটা বাধা দিল। ঘুম থেকে ওঠে দরজা খুলে, বাইরে বের হতেই প্রচণ্ড চমকে উঠলেন তিনি। একটা সাপ পড়ে আছে উঠানে। মরা। একটা মাছ আটকে আছে তার গলায়। গিলতে নিয়েও গিলতে পারেনি। অর্ধেক ভিতরে অর্ধেক বাইরে— অসমাপ্ত প্রেমের মতো আটকে আছে সেটা দ্বিধা নিয়ে। ফিরে এলেন তিনি ঘরে। আবার। মলিন ভাস্কর্যের মতো মেলে থাকা মশারিটার ফাঁক গলে শুয়ে থাকা স্ত্রীকে দেখলেন। ছয় মাস বাহিত হওয়া ঈষৎ ফুলে যাওয়া পেটটা উঠা-নামা করছে নিঃশ্বাসের তালে তালে। ডান হাতের তালুর ওপর মাথা শোওয়ানো-ভাবনার বেড়াজালে ঘুম আর প্রশান্তি মিশে আছে এক হয়ে। কেবল ঠোঁটজোড়া বিশ্রীভাবে হাঁ হয়ে আছে, পানিতে জেগে ওঠা ক্ষুধার্ত মাছের মতো দেখাচ্ছে ও দুটো। মশারিটা আলতো করে সরিয়ে চৌকিতে নিতম্ব ঠেকালেন কার্তিক পাণ্ডু। কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না ঠিক। এরই মধ্যে একটা মশা এসে বসল পায়ে, কুট করে কামড়ও দিল। বিরক্তি নিয়ে পা দুটো তুলে বসলেন তিনি। মশারিটা টেনে আবদ্ধ হলেন শত ছিদ্রের আড়ালে। সঙ্গে সঙ্গে পিঠে একটা হাত রাখল বউ, ‘কাজে যাবেন না?’ ‘যাব।’ ঘুরে বসলেন তিনি বউয়ের দিকে। ‘ফিরে এলেন যে আবার?’ এভাবেই শুরু করা হয়েছে জানালার অপাশে । প্রিয় পাঠক পরেও দেখতে পারেন সুমন্ত আসলামের বই । সুমন্ত আসলাম। এখনকার তরুণ পাঠকের কাছে ‘প্রিয় লেখক’ নাম এটি। দু’চোখ ভরা স্বপ্ন তার। দেশ, জাতি, সমাজ, মানুষ সবাইকে নিয়েই তিনি স্বপ্ন দেখেন। সবার ভালো থাকার স্বপ্ন দেখেন। অনেক ভালোবাসা নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। আর, সে সব স্বপ্নের বীজ তিনি বপন করেন পাঠকের মনেও।