শিল্পী কামরুল হাসান নাম দিয়েছিলেন, ‘বিশ্ব বেহায়া’। স্বৈরশাসক এই বেহায়ার নাম ছিল হ ম এরশাদ। তার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল সমগ্র বাংলাদেশ। আগের সব বড় আন্দোলনের মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব বেহায়াকে ক্ষমতা থেকে নামাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এই আন্দোলন শুধু রাস্তায় সীমাবদ্ধ ছিল না। গান, কবিতা, পথ নাটক, আবৃত্তিসহ সংস্কৃতির প্রতিটা শাখা থেকে এরশাদকে প্রতিরোধ করা হয়েছিল। তবে তারুণ্য আন্দোলনের পাশাপাশি হাসি-ঠাট্রা, প্রেম সব-ই করেছিল। ‘রাঙা বসন্ত বাতাস’ গল্পে সেই সময়কার বিক্ষোভে ফেটে পড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলে আনা হয়েছে।
অটিস্টিক বাচ্চাকে নিয়ে সংসারে টানাপোড়ন ও সফলভাবে অটিস্টিক শিশুর বেড়ে উঠার কাহিনী আছে ‘আচল ভরা ফুল’ গল্পে। ফিলিপিনো মেয়ে ও বাঙালি ছেলের জীবন কাহিনীর অদ্ভুত সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যাবে ‘অনামিকা’ লেখায়। প্রেমে পুষে রাখা ক্ষোভ চূড়ান্ত মুহূর্তে ভিতর থেকে বের হয়ে এসেছে ‘অন্তরা’ গল্পে। একজন বাবাকে দেয়া অঙ্গীকার রক্ষা করার নিদারুণ প্রচেষ্টা ফুটে এসেছে ‘সমাপান্তে’ গল্পে। লেখকের নিজের জীবনের আলেখ্য পাওয়া যাবে, ‘আমার মায়ের মুখ’, ‘আমার বাবার কথা’, ও ‘আমি কাঁদবো না’ লেখা তিনটায়।
এই বইয়ের প্রতিটা রচনায় বড় বিষয়কে ছোট ক্যানভাসে উপস্থাপন করা হয়েছে। লেখাগুলোতে উপন্যাসের পূর্ণ আমেজ পাবেন, কিন্তু অকারণ কোন চরিত্র পাবেন না। প্রয়াত শিক্ষাবিদ জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী বলে গেছেন, ‘কাজী হাসানের লেখা একবার শুরু করলে, শেষ না করে উঠা যায় না’। আমি একেবারে নিশ্চিত আপনার বেলায় এর কোন ব্যতিক্রম হবে না।