নবনীতা! এখনও বড়াল নদীতে সারি সারি পালতােলা নৌকা চলে । দিলপাশার ট্রেন থামে, যাত্রীরা ওঠানামা করে, দু’বেলা মাছের বাজার । আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে চলন বিলে থৈ থৈ পানি, আশ্বিন-কার্তিকে প্রতিমা বিসর্জন। পৌষে মাঠের পর মাঠ হলুদ সর্ষেক্ষেত। সবকিছু আগের মতােই আছেশুধু তুমি নেই, নবনীতা! তুমি বলেছ, একটা চাকুরির জন্য। পুরাে কলকাতা শহর চষে বেড়িয়েছ, সেন্ডেলের তলা ক্ষয় করেও, একটা ভালাে চাকুরি তুমি পাওনি । তবু কেন চলে গেলে, এই জন্মভূমি, এই মাটি, এই মানুষ ছেড়ে! | নবনীতা! জানি কোনাে দিনই তুমি ফিরে আসবে না, তবুও অপেক্ষায় থাকি! যদি কখনও কোনাে দিন, কোনাে পূজা-পার্বণে, অথবা কারাে মৃত্যু সংবাদে তুমি ফিরে আসাে। তাই এখনও ট্রেনের পাদানিতে চোখ মেলে রাখি । তােমার আলতারাঙা পা, কত দিন দেখি না! নবনীতা! তুমি এখন কলকাতা, নাকি দার্জিলিং-এ! কোথায় আছ তুমি?