কবি নির্মলেন্দু গুণের ঋতুবিষয়ক সব কবিতার সংকলন ঋতুসমগ্র। নির্মলেন্দু গুণ তাঁর অর্ধশতাব্দীর কবিজীবনে লিখেছেন বহু ঋতুবিষয়ক কবিতা। এই বিপুল রচনারাশির বড় অংশই তাঁর বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থে ছড়ানো। ঋতুসমগ্র বইটিতে প্রথমবারের মতো সেগুলো ঋতু অনুযায়ী পর্বে পর্বে মলাটবন্দি হলো। সঙ্গে আছে কিছু নতুন কবিতা, যা এখনো কোনো গ্রন্থভুক্ত হয়নি।
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন গ্রীষ্মজাতক, কিন্তু হূদয় ছিল গহন বর্ষামগন। তাঁর বিপুল সৃষ্টিতে, কী গান-কবিতা-গল্প, ঋতুরচনায় বোধ করি বর্ষারই প্রবল প্লাবন। আর কবি নির্মলেন্দু গুণ স্বয়ং বর্ষাজাতক। তাই বর্ষা একই সঙ্গে তাঁর জননী, ভগিনী, কন্যা ও প্রেমিকা। বলা হয়, বর্ষা বাঙালির সবচে আপন ঋতু; বহু ভারতীয়রও। নইলে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে সংস্কৃত কবি কালিদাস মেঘদূতের মতো এমন আশ্চর্য কাব্য লিখলেন কেমন করে! আবার প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ বর্ষাকাব্য লিখেননি বললেই চলে, বরং তিনি উপেক্ষিত হেমন্তের কবি। তবে তিনিও মেঘদূত অনুবাদের চেষ্টা করেছিলেন।
এই হ্রস্ব-রচনায় কেন দীর্ঘ বর্ষাস্তুতি? কারণ নির্মলেন্দু গুণের ঋতুকবিতা বর্ষাতেই বিশেষভাবে প্রস্ফুটিত। শরত তো বর্ষারই সহোদরা, তাই কবিকে এখানেও প্রবলভাবে পাই। আর বসন্ত? সে তো পৃথিবীর প্রায় সব কবিরই প্রাণযৌবনের ঋতু। গুণ সত্তর পেরিয়েও তারুণ্যের কবি। তাই বসন্তেও এই কবি পলাশের মতো রক্তরঙিন। এছাড়া আছে গ্রীষ্মের শীতল কবিতা, শীতের উষ্ণ কবিতা। আর লুপ্তপ্রায় ঋতু হেমন্তও পেয়েছে খানিক মর্যাদা। এভাবে ঋতুতে ঋতুতে কবি রচনা করেছেন বহু কবিতা, যেখানে ধরা আছে তাঁর সময় ও জীবননির্যাস।
তাঁর ছয় ঋতুর সব কবিতার আকর এই ঋতুসমগ্র পাঠের ভিতর দিয়ে আমরা কবির ভিন্নসত্তার দেখা পাই।’ ‘বাংলা কবিতার পাঠকদের জন্য অনবদ্য উপহার’ হিসেবে বইটি প্রকাশ করেছে প্রকৃতি।