5 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 280TK. 251 You Save TK. 29 (11%)
"উড়াল মাছির পানসি" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা:
তৌফিক ছােটবেলা থেকে একা। কৈশােরে মাকে নিয়ে দেখা এক দৃশ্য তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। এখন মােহনাকে নিয়ে তাঁর ঘর বাধার স্বপ্ন। মােহনা
এই উপন্যাসের মূল চরিত্র তিনটি—তৌফিক, মোহনা আর নন্দিনী। তৌফিকের জীবন আঁকবাঁকে ভরা। খুবই উত্থানপতনময়—সেই শৈশব-কৈশোরকাল থেকে। কিন্তু কোনো বাধাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তাঁর জীবনে। লেখাপড়ায় বরাবর মেধার পরিচয় দিয়েছেন। অথচ তাঁর আগমন এক অতি নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে। যখন তিনি স্কুলের ছাত্র, সে সময় এক আকস্মিক ঘটনা তৌফিকের জীবন তছনছ করে ফেলে। মায়ের ঘরের দরজা খুলতে গিয়ে দেখে, এক সুঠামদেহী যুবকের সঙ্গে তাঁর মা দৈহিক মিলনে লিপ্ত। ছেলেকে দেখে মা নিজেকে কোনোমতে সামলে নেন বটে, কিন্তু মায়ের এই চারিত্রিক রূপ তাঁর হৃদয়-মন পুরোপুরি ভেঙে ফেলে। তিনি পালান।
আর নয় এই বাড়িতে। মায়ের মুখোমুখি হওয়া আর নয়।
নন্দিনীও ভেতরে ভেতরে সমস্ত অন্তর দিয়ে চান তৌফিককে। কোনো লোভ-লালসা থেকে নয়। তৌফিক যে একজন আন্তরিক ও নিখাদ মানুষ, সেই টান থেকে নন্দিনী নিজের জীবনকে নিবেদন করতে চান তাঁর উষ্ণ বুকের গভীরে। দুজনের পৃথক অস্তিত্ব একাকার করে ফেলতে চায়। এখানে মনে রাখা দরকার, নন্দিনী সনাতনধর্মী। তবু জাত-পাতের প্রশ্ন তাঁর কাছে বড় নয়—এটা কম বড় সাহসের কথা নয় এই সমাজে।
ওদিকে মোহনা ভিয়েনায় উচ্চতর গবেষণার জন্য চলে যান। হতে শুরু করে সেখানকার জীবনধারার ওতপ্রোত সহচর। হনও। আর নন্দিনী তৌফিকের তত্ত্বাবধানে এমফিল করার পাশাপাশি নিয়ে ফেলেন সেই ঝুঁকি, যে ঝুঁকি প্রাথমিকভাবে তাঁর পরিবারে আলোড়ন তুললেও, ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে। মোটামুটি ঘটা করেই বিয়ে হয়ে যায় তাঁদের।
নন্দিনী বলছেন বাসরশয্যায় শুয়ে, ‘আমাকে পেতে কি তোমাকে পরীক্ষা দিতে হবে? আমি তো তোমার হয়েই জন্মেছিলাম। পৃথিবীতে এসেছিলাম। আমাকে জয় করতে কি ইতিহাসের “হেলেন অব ট্রয়ের” মতো যুদ্ধবিগ্রহে নামতে হবে?’
জবাকে তৌফিক বলেন, ‘তোমাকে আমার ঘরে তুলে আনতে পেরে আমার ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।’
এভাবেই উপন্যাসটির সমাপ্তি। রেজাউর রহমান এই উপন্যাসের মাধ্যমে এমন এক ঘরোয়া কাহিনি একান্ত আটপৌরে ভাষায় তুলে ধরেছেন, যার পাঠ শুরু করলে শেষ না করে উঠতে পারা যায় না। আমাদের কথাসাহিত্যে উড়াল মাছির পানসি একটা সংযোজনস্বরূপ সাহিত্যকীর্তি।