40 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 280TK. 249 You Save TK. 31 (11%)
২৫ মার্চের ভয়াবহ রাত্রির পর তারা মিরপুরের বাঙালি পরিবারগুলোকে বিভিন্ন কৌশলে মিরপুরের ভিতরে আটকে রাখার চেষ্টা করে আর তাদের উপর নির্যাতন ও হত্যাকান্ড চালাতে থাকে। ২৫ শে মার্চের সেই
একাত্তরে মিরপুর ছিল ভয়াবহ এক মৃতপুরী। আগ্রাসী পাকসেনারা চরম অবিবেচনায় যখন ঝাঁপিয়ে পড়েছে অগণিত ছাত্র-জনতা ও নিরীহ মানুষের ওপর, তখন পাশবিক বর্বরতার চরম দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে মিরপুরের একদল অবাঙালি। তারা নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাংলাভাষীদের ঘরে ঘরে পৈশাচিক তাণ্ডব চালিয়ে হত্যা করেছে বহু মানুষ।রোকনপুরে থাকত তারা। লম্বা, একহারা গড়নের, ফর্সা, সপ্রতিভ মেয়েটার নাম ছিল মেহেরুননেসা_ ডাক নাম রানু। স্বপ্ন দেখত, কবিতা লিখত। তার কবিতায় ফুটে উঠত মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপড়েন ও যন্ত্রণা; মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার একান্ত বিশ্বাস ও আশা আকাঙ্খা। পশ্চিমবঙ্গের নারকেলডাঙ্গা থেকে তারা এ দেশে এসেছিল অনেক অনেক প্রত্যাশা নিয়ে। বাবা এক ফুড প্রডাক্টসের ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। এক দুর্ঘটনায় তার অঙ্গহানি ঘটায় তিনি পক্ষাঘাতদুষ্ট হন। কিশোরী মেয়েটি তখন ওই অল্প বয়সেই সংসারের হাল ধরে। নিদ্বর্িধায় সে বলত, 'আমি শ্রমিকের কাজ করি।' পরে বাবা মারা যাওয়ায় রানু ছোট ছোট দুটি ভাই ও বিধবা মাকে নিয়ে মিরপুরের ৪নং সেক্টরে বাস করত। একাত্তরে মার্চের কালরাতে অবাঙালি দুর্বৃত্তরা তার ছোট দুটি ভাই ও মাকে নৃশংসভাবে জবাই করে। তারপর তাকেও নির্মমভাবে জবাই করে তার খণ্ডিত শির তারই দীর্ঘ চুলের সাহায্যে ঘরের ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখে। কী মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড!
বাঙালির গর্ব কালজয়ী চলচ্চিত্রকার ঔপন্যাসিক জহির রায়হানকে বিহারীরা মিরপুরে ৩০ জানুয়ারি কোথায় কিভাবে হত্যা করেছিল তাও এখন সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা গেছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে অবরুদ্ধ মিরপুরের বাঙালিদের উপর পাকিস্তানী শাসক ও তার দোসরদের ভয়াবহ বর্বর হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংস ও নিষ্ঠুরতার নিদারুন কাহিনী উঠে এসেছে এই বইটিতে। বেরিয়ে এসেছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা তথ্য, অজানা কথা, আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা ও ভবিষ্যতের প্রয়োজনে যা জানা আমাদের খুবই প্রয়োজন।