" আমি শেষ বিনয়দাকে দেখেছিলাম সেটা ১৯৬১-৬৭ সাল হবে। মাথায় ঝাঁকড়া অগোছালো চুল, মুখভর্তি দাড়ি, জামাকাপড়ে মালিন্যের করুণতম ছাপ, গায়ে দুর্গন্ধ, আঙুলের বড় বড় নখ ভর্তি ময়লা। আর সমস্ত শরীর, স্নায়ু-গ্লান্ডভর্তি রাগ। সবাইকে ভেংচাচ্ছেন) - কাউকে খামচে দিচ্ছেন নিজের খেয়ালখুশিমতো। অশ্লীল ভাষায় থুতু ছিটিয়ে চলছেন টেবিলে টেবিলে। একদিন তো হঠাৎ হাজির হলেন কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসে হাতে একটা লাঠি নিয়ে - বসিয়ে দিলেন এক ঘা কোনও এক বেয়ারার মাথায় - তারপর যা হয়- পুলিশ, কোর্ট এবং সর্বশেষে কুড়ি দিনের হাজতবাস। "
মোট দশটি সাক্ষাৎকার নিয়ে এই বই৷ ওপরের কথাগুলো দ্বিতীয় সাক্ষাৎকার থেকে নেওয়া। বোঝাই যাচ্ছে কবি বিনয় মজুমদার অদ্ভুত মানুষ। তবে এই মানুষটিকে সাক্ষাৎকারে তেমনভাবে পেলাম না এই আফসোস রইল মনে।
" ফিরে এসো, চাকা" বাংলা সাহিত্য এক অনুপম সৃষ্টি। এই কাব্যগ্রন্থটিতে ৭৭টি কবিতা আছে। প্রেসেডেন্সি কলেজে পড়েছেন বিনয় মজুমদার। সেখানে বাংলার শিক্ষক ছিলেন জনার্দন চক্রবর্তী। যাঁকে তিনি গুরু বলে সম্বোধন করেছেন। এই জনার্দন চক্রবর্তীর কন্যা গায়ত্রী চক্রবর্তী। যিনি আজকের বিখ্যাত বুদ্ধিজীবী গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক! তাঁকে কেন্দ্র করেই বিনয় মজুমদারের " ফিরে এসো, চাকা " লেখা। গায়ত্রী দেবীকে বইটি উৎসর্গও করেছিলেন বিনয় মজুমদার। মজার ব্যাপার হলো বারবার গায়ত্রী দেবীর প্রসঙ্গ এলেও একবারের জন্যও খোলাসা করেননি দু'জনের মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল কিংবা আদৌ কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা৷
পাঁচ-ছ'বার পাগলাগারদে কাটাতে হয়েছে বিনয় মজুমদারকে। ১৯৬৬ সালে একবার তো পালিয়ে পূর্ববঙ্গে চলে এলেন। উল্লেখ্য, কবির পৈতৃকনিবাস ছিল গোপালগঞ্জে। তো পূর্ববঙ্গে এসে বন্ধুদের বললেন আমি মুসলমান হব, আর ফিরে যাব না। সবাই তাঁকে যত্ন-আত্তি করলো। লজিং মাস্টারের কাজও জুটে গেল। কিন্তু কেউ এই ব্যাটাকে মুসলমান বানাতে রাজি হলো না! পরের ঘটনা আরও অভিনব। নিজেই থানায় হাজির হয়ে জানালেন, আমায় হাজতে পুরো।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছিলেন বিনয় মজুমদার। গণিত এবং বিজ্ঞান নিয়ে তাঁর পাণ্ডিত্যের পরিচয় সাক্ষাৎকারে পাঠক পাবেন।
প্রত্যেকটা আলোচনা কেমন যেন একঘেয়ে লাগছিল। কেউ-ই আলাপটা জমিয়ে তুলতে পারছিলেন না৷ দোষটা সম্ভবত দুই পক্ষের। কবি মজলিশি মেজাজের নন, বাকপটু তাঁকে বলা চলে না। যারা তাঁর সঙ্গে আলাপ করতে গেছেন, তাদের প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল বলে মনে হচ্ছিল। কেননা অনেকেই কথা খুঁজে পাচ্ছিলেন না৷ তাই কবি বিনয় মজুমদারকে এই সাক্ষাৎকারগ্রন্থে কতটা পাওয়া যাবে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রইল।
Was this review helpful to you?
By Adnan, Nov 30, 2019
আমি কথা বলি নি বিশেষ --
চুপ করে শুনেছি অন্যেরা কি বলে
কথাটি বলেছিলেন বিনয় মজুমদার, তবু সুযোগ পেয়ে বলেছিলেন কবিতা ও গণিতের কথা । অস্ফুটে অনেক কিছু বলেছেন, যার অনেকাংশেই ছিলে নিজের অন্তরের লুকায়িত ক্ষোভ ও দুঃখ । নির্বাচিত সাক্ষাৎকার গ্রন্থে ধরা আছে তার জীবন কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ, বিনয়প্রেমী কাব্যসমাজ যা পড়ে দেখলে তার রহস্যময় জীবন সম্পর্কে কিছুটা হলেই বুঝতে পারবেন ।