এই বইয়ের গল্পগুলো অতিপ্রাকৃতিক। টাইম মেশিনের প্রকল্প। তিনজন হঠাৎ উধাও। কোনো খোঁজ নেই। শেষ পর্যন্ত কর্তারা প্রকল্প স্থগিত করে দেয়। ওদিকে তিনজন ৫০ হাজার বছর আগের সময়ে চলে গেছে। সেখানে এক জঙ্গলে তাদের আস্তানা। তারা বুনো হাঁস ও তিতির পাখির মাংস আগুনে ঝলসিয়ে খায়। চারপাশে ইয়া বড় বড় ঘোড়া ও অদ্ভুত সব প্রাণী ঘুরে বেড়ায়। এদিকে যন্ত্রটা বিকল। ২০০ দিন তিন বন্ধু খাটাখাটনি করে মেশিনটির জন্য কিছু একটা করেছে। দুজন গেছে হরিণ শিকারে। বাকিজন টাইম মেশিন নিয়ে হাওয়া। চিঠি লিখে রেখে গেছে, ‘আমি শিগগিরই ফিরে এসে তোমাদের নিয়ে যাব।’ সেই বন্ধু বর্তমানে ফিরে প্রকল্পটা পুনরায় চালু করেছে। টাইম মেশিনের ত্রুটিটা সারিয়ে দুই বন্ধুকে ফিরিয়ে আনতে হবে। হাজার হাজার বিজ্ঞানী মিলে ‘প্রজেক্ট মাস্টোডনে’ কাজ করছিল। এদিকে দুই বন্ধু অপেক্ষায়। এ হচ্ছে ‘প্রজেক্ট মাস্টোডন’ সায়েন্স ফিকশন সংকলনের নাম গল্প। একে ছোটখাটো উপন্যাসই বলা যায়। এর মূল গল্পকার সিডি সিমাক।
এই রকম আটটি ফিকশন নিয়ে বই ‘প্রজেক্ট মাস্টোডন’। লেখক ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন, এসব লেখা অনেক আগে তৈরি ছিল। এমনকি এক যুগ আগে দুটি গল্প ‘প্রথম আলো’য় ছাপা। কিন্তু এত দিনে বড় ছেলের আবদার রাখতে গিয়ে বই প্রকাশ করেছেন। ভূমিকায় লিখেছেন, ‘হুবহু লাইন বাই লাইন ধরে অনুবাদ না করে ভালো লাগা গল্পের প্রেরণাটুকু নিয়ে গল্পের কাঠামোটা যথাসম্ভব ঠিক রেখে নিজের মতো করে লিখতেই আমার ভালো লাগে। তাতে বেশ স্বাধীনতা, স্বাচ্ছন্দ্য এসব অনুভব করা যায়।’ এই স্বাচ্ছন্দ্য যে কতটা নিপুণ তা না পড়লে বোঝা যাবে না। নামগল্পটি ব্যতীত বাকিগুলো পড়ে ঘুণাক্ষরেও বোঝা যায় না, এগুলো অনুবাদ। মনে হয়, এ দেশেরই কোনো লেখক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লিখেছেন। এখানেই অনুবাদকের কৃতিত্ব। যদিও সমালোচকরা মূলানুগ অনুবাদকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। কিন্তু মূলানুগ না হয়েও বাকি গল্পগুলো সুখপাঠ্য ও হূদয়গ্রাহী হয়েছে।
Was this review helpful to you?
By Mithun Acharjee, Mar 10, 2016
Every story is awesome. Read after long time... feel great.