বুড়ো বয়েসে পেট এক জ্বালা। মহা জ্বালা। সেই কোন দুপুরে খেয়েছে আর এখন বিকেল। উঠোনে ওরা সবাই চা বিস্কুট খাচ্ছে। তার সুগন্ধে গাল ভেঙ্গে জল আসছে। পেটের উপর হাত দিয়ে রান্না ঘরের পাশের বারান্দায় ঢেঁকির সাথে পিঠ ঠেকিয়ে বসে থাকে সে। ছোট বউয়ের যখন মর্জি হবে তখন একটু চা আর দুটো খড়ম বিস্কুট খেতে দেবে। আজ আবার বড় বউ এসেছে বেড়াতে। সাথে শেষ দিকের ছেলেমেয়ে দুটো। ভাল বিস্কুটের ঘি গন্ধ ভেসে আসছে বাতাসে। জিভ ঘুরিয়ে গলে আসা লোভের জল গালের ভেতর চালান করে দেয় সে। ক্রমশ কমে আসা চোখের দৃষ্টিতে দেখে চক্চকে উঠোনে চাঁদের হাট বসেছে। বড় বউয়ের ছোট ছেলেটি সাহেবের মত রঙ পেয়েছে। মাঝে মাঝে ছুটে এসে দেখে যাচ্ছে তাকে। ময়লা রঙ ছোট মেয়েটিও ঝাঁকড়া চুল উড়িয়ে ছুটে ছুটে আসছে আর চিৎকার করছে, বুজি বুজি বুজি কেমন আছ?
বুজি? তাতো বটে! সে এদের বুজি মানে দাদী হয়। আপন নয় সৎ দাদী। সৎ দাদী বলেই না এই অবহেলা-অসম্মান। ফেলে রাখা খাবার খেয়ে এই অশ্রদ্ধায় বেঁচে থাকা। আপন হলে কি পারত তাকে না দিয়ে সকলে মিলে হাসি-ঠাট্টা করে চা-বিস্কুট খেতে? বুজির চোখ ভেসে যায় জলে। চঞ্চল মেয়েটা কি বোঝে কে জানে।