2 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 200TK. 172 You Save TK. 28 (14%)
একটা ৩৫ মিমি ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচ্য। বাম হাতের দু'আঙুলের ফাঁকে পুড়ছে সিগারেট। ডান হাতে থাকা চিত্রনাট্য পড়ছে গভীর মনোযোগ দিয়ে। সামনে কয়েকজন কলাকুশলীর জটলা। হঠাৎ সে হাঁক
খুবই সুন্দর একটা উপন্যাস। ১২৭ পৃষ্টার খুব বিস্তৃত আর সুবিন্যস্ত একটা গল্প। প্রতিটা চরিত্রের গুরুত্ব ছিলো গল্পে। খুব সুন্দর করেই উপস্থাপন করা হয়েছে চরিত্রগুলোকে। আর গল্পটা সত্যি কোনদিকে মোড় নেবে বইটা প্রথমে পড়ে কেউ বুঝতে পারবেনা। সত্যি খুবই সুন্দর।
ভীষণ চঞ্চল আর ভয়াবহ সুন্দরী তরুণী রেহানা। রিকশায় তার সহযাত্রী হয়েছে প্রাচ্য। অস্বস্তিই লাগছে তার। কে যে দেখে কী মনে করবে! তবে রেহানার কোন বিকার নেই। রিকশায় ওঠার পর থেকে সে একমনে বকবক করে যাচ্ছে। `জানেন ভাইয়া, আমার বন্ধুরা কী বলে? আমি সিনেমায় নামলে নাকি বাংলা সিনেমার কোন নায়িকারই আর ভাত থাকবে না। আমারও তাই মনে হয়। যারা এখন হিটলিস্টে আছে, একজনেরও ফিগার তেমন ভালো না। অথচ আপনি হিন্দি ফিল্মগুলো দ্যাখেন।'...ওর বকবকানির মধ্যেই প্রাচ্য ডুবে যায় আপন জগতে। একটা ৩৫ মিমি ক্যামেরার পেছনে সে দাঁড়িয়ে আছে। বাম হাতের দু’ আঙ্গুলের ফাঁকে পুড়ছে সিগারেট। ডান হাতে থাকা চিত্রনাট্য পড়ছে গভীর মনোযোগ দিয়ে। সামনে কয়েকজন কলাকুশলীর জটলা। প্রাচ্য নির্দেশ দেয়, রোলিং...থ্রি-টু-ওয়ান...অ্যাকশন...। ঘুমে-জাগরণে এই স্বপ্নটা তাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। তার স্বপ্ন কী পূরণ হবে? রেহানাও কী পারবে চিত্রনায়িকা হতে? প্রাচ্যর সঙ্গে মৌমিতা, সুরমা, জলির সম্পর্কেরই বা পরিণতি কী? উপন্যাসটি পড়তে পড়তে এরকম অনেক প্রশ্ন উঁকি দেবে মনে। উত্তরের নেশায় পাঠককে ছুটতে হবে বইটির শেষপর্যন্ত।
কাহিনীর আরেক কেন্দ্রীয় চরিত্র আরমান। নিজেকে যে অতি সামান্য আর একদম নিচের সারির মানুষ বলে মনে করে। বৃদ্ধ শিল্পপতি আলম চৌধুরীর তরুণী স্ত্রী শায়লার সঙ্গে তার গড়ে ওঠে অন্যরকম সম্পর্ক। একদিন রাতে ডিম লাইটের আলোয় ভাঁজ করা কম্বল খুলে শায়লার গায়ে জড়িয়ে দিচ্ছিল আরমান। তখনই ঘটল অঘটন। আরমান কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার মুখটাকে নিচের দিকে টেনে নেন নেশাগ্রস্ত শায়লা। নিজের পুরুষ্টু ঠোঁটে ছোঁয়ান আরমানের ঠোঁট।...কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এ সম্পর্ক? নানা টানাপোড়েন, স্বপ্ন আর সংঘাতের দ্বন্দে সুখপাঠ্য এক উপন্যাস।