16 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 375TK. 323 You Save TK. 52 (14%)
ফ্ল্যাপে লিখা কথা
..সব বাজিকর জানে ‘রহু চণ্ডালের হাড়’ কথাটাই ঐন্দ্রজালিক ,বুজরুকি। তবুও সব বাজিকরই এখনো রহু চণ্ডালের হাড়ের স্বপ্ন দেখে মনে মনে ও বিশ্বাস করে তার সার্থক অ
গ্রন্থঃ রহু চণ্ডালের হাড়।
লেখকঃ অভিজিৎ সেন।
রচনাশৈলীঃ চিরায়ত।
একজন নিয়ত পরিভ্রমণকারী ভবঘুরে যেমন যাযাবর তেমনি গোষ্ঠীবদ্ধ ভ্রাম্যমাণ জীবনযাপনকারীরাও (মূলত) যাযাবর।
ইউরোপের জিপসি,আরবের বেদুঈন ভারত-বাংলার বেঁদে এই তিন গোষ্ঠী-ই যাযাবর সম্প্রদায়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, যখন 'সমাজ','সভ্যতা','মানবজাতি ' ইত্যাকার শব্দগুলো উচ্চারিত হয় তখন কি কোনভাবে আমরা যাযাবর সম্প্রদায়ের কথা মনে করি? করিনা। অবচেতনে আমরা তাদেরকে মানুষের সংজ্ঞা থেকেও যেন বের করে দিয়েছি। অথচ এই সম্প্রদায়-ই পৃথিবীর প্রকৃত বাসিন্দা।কারণ,তারা নিজেদেরকে পৃথিবীর সন্তান মনে করে থাকে। সারা পৃথিবীই তাদের আবাসস্থল। কোন নির্দিষ্ট পরিমণ্ডলে তারা নিজেদেরকে আবদ্ধ ও সীমাবদ্ধ করে রাখেনা। আমাদের সামাজিক জীবনে তাদের উপস্থিতি,সক্রিয়তা,অবদান উল্লেখযোগ্য, সবচেয়ে অবাক করা সত্য হলো,তারাই সমাজে সবচে অবহেলিত। এবং এ নিয়ে তাদের কোন দুঃখ আছে বলে মনে হয়না।
অভিজিত সেনের #রহু_চণ্ডালের_হাড় উপন্যাসটি এই (বেদে) যাযাবর সম্প্রদায়ের জীবনচক্রকে ভিত্তি করে রচিত। তাদেরও ত আছে সুখদুঃখ, বিরহ-বিচ্ছেদ, প্রেমভালোবাসা, বিবাহ-সংসার,আয়-উপার্জন ও হৃদয়ের সুপ্ত আশা-আকাঙ্খা, তাদের মাঝেও ঘটে থাকে অলৌকিকপ্রায় কাকতাল।লেখকের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ তার মহৎ সিদ্ধান্তের জন্য।অবহেলিত বেদে সম্প্রদায়ের জীবনচরিতের এক মহাকাব্যিক আখ্যান তিনি রচনা করেছেন। বেদে সম্প্রদায়ের অনেক উপসম্প্রদায় আছে।তন্মধ্যে সাপুড়িয়া ও হরি-জাত বেশ প্রসিদ্ধ।কিন্তু তাদের মধ্যে সবচে' অভিজাত ও চিরায়ত একটি সম্প্রদায় হলো 'বাজিকর' সম্প্রদায়।এই 'বাজিকর' সম্প্রদায় হলো আলোচ্য উপন্যাসের প্লট।যাদের নিয়ে প্রচলিত আছে নানা মিথ ও কিংবদন্তি।
#বর্ণনাভঙ্গি: সাহিত্যের চিরন্তন যে ধ্রুপদী ধারা,আমরা ক্লাসিক বলে থাকি,বর্তমানে লুপ্তপ্রায় এই চিরায়তধারায়ই লেখক উপন্যাসটি বয়ান করেছেন ।ঐন্দ্রজালিক উপস্থাপনায় এগিয়ে চলেছে কাহিনীধারা।বর্ণনাভঙ্গি নীরব কিন্তু কৌতূহলোদ্দীপক ও সচল।সাহিত্যের চিরায়ত পন্থা যাদের বরাবর ভালো লাগে এই উপন্যাসটি তাদের জন্যই। #গড_অব_স্মল_থিংস,#সিজ_দা_ডেই এর পর উপভোগ করতে পারেন ১৯৯২ সালের বঙ্কিম সাহিত্য পুরষ্কারপ্রাপ্ত এই গ্রন্থটি।